মেছতা কী?
ত্বকের রং তৈরির কোষ বেশি মেলানিন বানালে মুখের দুই পাশে সমান ছোপ পড়ে — এটাই মেছতা। ক্ষতিকর বা ছোঁয়াচে নয়, তবে সহজে যেতে চায় না, আর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে।
গর্ভাবস্থায় প্রায়ই শুরু হয় বলে একে অনেকে "গর্ভাবস্থার দাগ" বলেন। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াও হতে পারে — গরমে গাঢ় হয়, শীতে একটু হালকা।
মেছতা কেন হয়?
সাধারণত একটি কারণে নয়। যা সবচেয়ে বেশি দায়ী:
- রোদ: অতিবেগুনি রশ্মি, আলো আর গরম — সবই রং বাড়ায়।
- হরমোন: গর্ভাবস্থা, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও হরমোনের চিকিৎসা।
- বংশগত: পরিবারে অনেকেরই থাকে।
- ত্বকে জ্বালা ধরায় এমন প্রোডাক্ট, বিশেষ করে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্লিচিং বা "ফর্সা হওয়ার" ক্রিম।
মেছতা কীভাবে নির্ণয় হয়?
ডা. ওয়াহিদা ডার্মাটোস্কোপ বা উডস ল্যাম্প দিয়ে দেখেন রং ত্বকের কতটা গভীরে। এটা জরুরি, কারণ ব্রণের পরের দাগ, ফ্রেকল বা অন্য দাগ দেখতে একই রকম লাগে — কিন্তু চিকিৎসা আলাদা।
স্কিনোলজিতে মেছতার চিকিৎসা
ধাপে ধাপে চিকিৎসা, ত্বকের সাড়া বুঝে বদলানো হয়:
- প্রতিদিন ভালো সানস্ক্রিন, বারবার লাগানো — সব চিকিৎসার ভিত্তি এটাই।
- আপনার ত্বক বুঝে রং কমানোর ক্রিম।
- হালকা মাত্রার কেমিক্যাল পিল, কয়েকটি সেশনে।
- জেদি ছোপে মেছতার মাইক্রোনিডলিং।
- কিছু ক্ষেত্রে ট্যাবলেট — শুধু ডা. ওয়াহিদা উপযুক্ত মনে করলে।
কেমন ফল আশা করবেন
বেশিরভাগ রোগী ৮–১২ সপ্তাহে দাগ হালকা হতে দেখেন। কড়া রোদ বা হরমোনের পরিবর্তনে মেছতা ফিরতে পারে, তাই একটা সহজ রুটিন চালিয়ে যেতে হয়। লেজার খুব সাবধানে দেওয়া হয়, কখনো একেবারেই না — কারণ শ্যামলা ত্বকে ভুল লেজার মেছতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
যা করবেন না
স্টেরয়েডযুক্ত বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফর্সা হওয়ার ক্রিম এড়িয়ে চলুন — কিছুদিন হালকা দেখালেও পরে ত্বক পাতলা, লালচে আর আরও কালো হতে পারে। জোরে ঘষা, কড়া ঘরোয়া টোটকা আর সুরক্ষা ছাড়া লম্বা সময় রোদে থাকাও এড়িয়ে চলুন।